ডেস্ক রিপোর্ট :: রংপুরে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকসহ ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) রংপুরের সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) আদালতে মহানগর নাগরিক কমিটির সিনিয়র সদস্য আব্দুর জব্বার সরকারসহ প্রি-পেইড মিটারে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জন এ মামলা করেন।
উক্ত মামলার বিবাদীরা হলেন- নেসকো রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোছাদ্দেক কবির, শরীফুল ইসলাম, মোস্তাফিজার রহমান ভূঁইয়া, হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক কানিজ ফাতেমা এবং মোকাবিলা বিবাদী হিসেবে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এ প্রসঙ্গে মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ সাংবাদিকদের বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রি-পেইড মিটার প্রকল্প অন্যতম।
তিনি দাবি করে বলেন, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আদেশে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং নষ্ট পোস্ট-পেইড মিটারের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কথা বলা হলেও, নেসকো কর্তৃপক্ষ সচল পোস্ট-পেইড মিটার খুলে বাসাবাড়ি, অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করছে।
পলাশ কান্তি নাগ বলেন, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সাড়ে ৯ লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকেরা আন্দোলন করে এলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রমকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণার দাবিতে এ মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ একটি সেবামূলক খাত। কিন্তু সেই সেবা পেতে গ্রাহকদের আগাম অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রি-পেইড মিটারে প্রতিবার রিচার্জের সময় মিটার ভাড়া বাবদ ৪০ টাকা, প্রতি কিলোওয়াটে ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ৫ টাকা কেটে নেওয়া হয়। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করছে, পোস্ট-পেইড ও প্রি-পেইড—উভয় মিটারে বিদ্যুতের খরচ একই। তাহলে অতিরিক্ত এসব অর্থ কেন কাটা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন যে, বিদ্যুৎ আইনে কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অন্তত ১৫ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় সেই বিধান কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে।
Leave a Reply